মেষপালক
গল্প

মাই এইম ইন লাইফ

পৃথু লিখেছিল, ওর জীবনের লক্ষ্য ও রাবি খালার মতো গল্প-বলিয়ে হতে চায়, যার নিজের কোনো বাড়ি থাকবে না।

মারিয়া সালাম

১২ মিনিটে পড়া

মাই এইম ইন লাইফ

ধুমের খড়খড়ে খোসা দিয়ে যেভাবে পৃথুর পিঠ ঘষা হচ্ছে, তাতে তার পিঠের চামড়া এমনিতেই উঠে যাওয়ার কথা। ইদানীং প্রতিদিনই এই অত্যাচার চলছে ওর ওপর। স্কুল থেকে ফিরে ঘরে ঢোকা কঠিনভাবে নিষেধ। আগে কুয়োর পাড়ে টুলের উপরে বসিয়ে মা আধাঘণ্টা ধরে ধুমের খোসা মানে শুকনা ধুন্দল দিয়ে ডলে ডলে ওর শরীর পরিষ্কার করবে, তারপর তার ঘরে ঢোকার অনুমতি মিলবে।

এই নিয়মে পৃথুর তেমন একটা সমস্যা হচ্ছে না, শুধু শরীর ঘষামাজার সময় মা আরেকটু কোমল হলেই চলে। সেটা উনি হচ্ছেন না, শরীরে যত শক্তি আছে সব দিয়ে চলছে পৃথুর শরীর ঘষার কাজ। সে ব্যথায় থেকে থেকেই ও আ আ করে শব্দ করে আর সেটা দেখে রাবি খালা খিকখিক শব্দ করে হাসে।

পৃথু ব্যথার কথা ভুলে সেদিকে কিছুক্ষণ অপলক তাকিতে থাকে। রাবি খালার মুখভর্তি কয়লার গুড়া, সেই কালো তরলের ফাঁকে ঝকঝকে সাদা দাঁত এই মাঝবেলার আলোতে চকচক করে। সেই দাঁত দেখলেই বোঝা যায়, এই মহিলা খুব যত্ন করে দাঁত ঘষামাজা করে।

সেটা একটা সময়ব্যাপী আয়োজন। চুলার গোড়া থেকে একটুকরা কয়লা তুলে সেটা পানিতে ভিজিয়ে প্রথমে ঠান্ডা করা হবে। দাঁত মাজার জন্য রাবি খালার পছন্দ শিঙট, মানে পাটকাঠির কয়লা। কয়লা ঠান্ডা হলে নিমিষেই সেটা চিবিয়ে গুড়া করে সেই গুড়া দিয়ে দাঁত মাজবে রাবি খালা। ঘুম থেকে উঠে তার প্রথম কাজ কয়লার টুকরা হাতে নিয়ে কুয়োপাড়ের উল্টা দিকের দেয়ালে দুই ডালিম গাছের মাঝামাঝি ঠেস দিয়ে বসা, তারপর এই দুপুর অবধি সেখানেই বসে থাকা।

“রাবি, একদম চুপ করে তোমার কাজ কর। হাসাহাসি করবা না। বাড়াবাড়ি বেশি হলে একদম ঘাড় ধরে বাড়ি থেকে বের করে দিব। তুমিই এসব নষ্টের মূলে,” মা গলায় ঝাঁজ নিয়ে রাবি খালাকে বকাবকি করতে থাকে।

তবে সেসবে রাবি খালার কোনো ভয় হয় না। বাড়ি থেকে বের করে দিলেও রাবি খালার কিছুই আসবে যাবে না, সেটা পৃথু জানে। মায়ের বকা শুনে মহিলা শরীর দুলিয়ে হাসে, হাসতেই থাকে। কঠিন বকা খেয়েও ঠান্ডা মাথায় রাবি খালা যে হাসিটা দেয়, সেই হাসিটাই পৃথুর খুব ভালো লাগে, ও এজন্য রাবি খালার মতো হতে চায়।

পড়াশোনায় ঘাটতি হলে মাঝেমধ্যেই সন্ধ্যার দিকে পৃথুকে মা বাড়ি থেকে বের করে দিতে চায়। ভয়ে ওর হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসে। কিন্তু রাবি খালার সেসব ভয় নাই, যখন ইচ্ছা নিজে মাঝরাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় আবার কখনও কখনও মা হাত ধরে টেনে বাড়ির বাইরে ঠেলে দিলেও সে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে খিকখিক শব্দ করে হাসতে থাকে। এই সাহসের হাসিটা পৃথুর খুব পছন্দ আর সেটা ওর মায়ের দু’চোখের বিষ।

সেভাবে ভাবলে রাবি খালা পৃথুরও দু’চোখের বিষ হওয়ার কথা। এই যে ইদানীং স্কুল থেকে ফিরে এই গা ঘষামাজার অত্যাচার, এর পেছনে রাবি খালা পরোক্ষভাবে দায়ী। কেন দায়ী? সেই গল্পটাও কিছুটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। একসপ্তাহ হলো নিজের স্কুল বাদ দিয়ে পৃথু হরিজন স্কুলে যাচ্ছে। সেজন্য বাড়ি ফিরলে এই অত্যাচার, মা প্রথমে শরীরের সর্বশক্তি দিয়ে ঘষে ঘষে পৃথুকে গোসল দিবে। আর সেইসঙ্গে ‘পাগলের বংশধর’ বলে বকাবকি চলতে থাকবে।

“এলাকার সবাই জানে তোরা পাগল, বাইরে সবাই বলে এটা পাগলের বাড়ি। আমি ভেবেছিলাম, আমার ছেলেটা অন্তত সুস্থ-স্বাভাবিক হয়ে বড় হবে। এখন দেখছি, আমি নিজেই এই বাড়ির সবচেয়ে বড় পাগলকে পেটে ধরেছি,” নিজের মনে বকতে বকতে মা পৃথুর মাথায় পানি ঢালতে থাকে।

পৃথুর কানে এসব বকাবকির কিছুই ঢোকে না, সে অধীর আগ্রহে প্রহর গুনতে থাকে কখন সন্ধ্যা হবে ওই আশায়। দুপুরের ভাতঘুম থেকে উঠে বিকেলে খেলতে যাওয়া, সন্ধ্যায় ফিরে পড়তে বসা আর পড়া শেষ হলেই রাবি খালার সঙ্গে মেঝেতে লেপমুড়ি দিয়ে কিচ্ছা শোনা।

রাবি খালার পেটের মধ্যে একটা বড় ঝুড়ি আছে। সেটা দেখা যায় না, তবে সেটা ভর্তি কতশত কিচ্ছা, নতুন নতুন কিচ্ছা। সেসব যখন রাবি খালা একেক পর এক বলতে থাকে, পৃথু অপলক গিলতে থাকে। বাবা বলেছে, এরকম গল্প যারা বলে, তাদের বলা হয় ‘গল্প-বলিয়ে’। পৃথু রাবি খালার মতো গল্প-বলিয়ে হতে চায় আর এটাই সে লিখেছিল পরীক্ষার খাতায়।

পৃথু লিখেছিল, ওর জীবনের লক্ষ্য ও রাবি খালার মতো গল্প-বলিয়ে হতে চায়, যার নিজের কোনো বাড়ি থাকবে না। তবে, দেশজুড়ে তার ঘর থাকবে, যখন যে ঘর ডাকবে পৃথু ট্রেনে চড়ে সেখানে ছুটে যাবে। দেশ দেখবে, মানুষ দেখবে আর সে গল্প বলবে।

তাতে কী এমন ভয়ানক অন্যায় হয়ে গেছে, সেটা পৃথুর চিন্তায় কুলিয়ে উঠে না এখনও। এই রচনা নিয়েই যত হুলস্থুল কাণ্ড বাঁধে স্কুলে।

স্কুলের বড় আপা বাবাকে ডেকে গম্ভীরমুখে বলেন, “দেখুন আমাদের স্কুল এলাকায় স্বনামধন্য। আমরা স্কুলে বাচ্চাদের এমন মূল্যবোধ শেখাতে চাই, তারা যেন সমাজে নিজেদের জন্য সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করতে পারে। পৃথু আমার জীবনের লক্ষ্য রচনায় লিখেছে, সে ভবঘুরে হতে চায়, গল্প-বলিয়ে হতে চায়। এটা তো আমাদের স্কুলের শিক্ষা নয়, এসব ও শিখছে বাড়িতে। সেকারণেই আপনাকে ডেকে আনা।”

“পৃথু যদি ভবঘুরে হতে চায় বা গল্প বলে বেড়াতে চায়, হবে, তাতে সমস্যা কী? পৃথুর জীবন নিয়ে পৃথুর যা ইচ্ছা করবে, কারো ক্ষতি না করলেই তো হয়,” বাবার জবাব শুনে বড় আপা কিছুক্ষণ হতভম্ব দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে হাতের কলমটা টেবিলে ছুড়ে বলেন, “বোঝা যাচ্ছে আপনি আমাদের কো-অপারেট করবেন না, পৃথুকে না বুঝিয়ে উল্টা ওকে উসকে দিচ্ছেন। এরকম হলে সরি, বাচ্চাকে আমরা স্কুলে রাখতে পারব না।”

বড় আপার রাগী রাগী চোখের দিকে তাকিয়ে বাবা আরো বেশি তেজ নিয়ে জানিয়ে দেয়, যারা গল্প-বলিয়ে বিষয়টার মর্ম বোঝে না, একটা সৃজনশীল পেশাকে ছোট করে দেখে, একটা আট বছরের বাচ্চার কল্পনাশক্তিকে অ্যাপ্রিশিয়েট না করে উল্টা মুখস্থ বিদ্যা চাপিয়ে দেয়, আবার এ নিয়ে বাবার কাছে অভিযোগ আনে, তাদের কাছে আমার ছেলের শিক্ষা নেওয়ার কিছু নাই। আজ থেকে পৃথুই আর এই স্কুলে পড়বে না।

পৃথুর হাত ধরে স্কুল থেকে বের হয়ে কঠিন চিন্তায় পড়ে যায় বাবা। বছরের এই শেষের দিকে এসে কোন স্কুলে পৃথুকে ভর্তি নিবে? সেই চিন্তা করতে করতে তো বাবার মাথা কাজ করাই বন্ধ করে দেয়। তারপর, অনেক ভেবে উনি সোজা গিয়ে হাজির হন এলাকার হরিজন স্কুলে।

এই স্কুল বদলের ব্যাপারটা মা মেনে না নিলেও, পৃথুর জন্য অবশ্য ভালোই হয়েছে। পড়াশোনার বাড়াবাড়ি নাই। একটা-দুইটা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে শিক্ষকরা খুশি, স্কুল ড্রেস পরেছে কি পরেনি সেটা নিয়ে কোনো সমস্যা নাই, কোনো বাড়তি নিয়ম নাই। মন চাইলে স্কুল ঘরের জানালা দিয়ে বাইরে একটানা তাকিয়ে থাকা যায়, যা ইচ্ছা আঁকা যায়।

স্কুল থেকে একটু দূরে বড় একটা বটগাছ, শান বাঁধানো। সেটার ডালে ডালে ঝুলে থাকে লাল ধাগা আর পেতলের ঘণ্টা। গাছের নিচেই শিবের প্রতিমা, তার পাশে বিশাল একটা ত্রিশূল, ত্রিশূলের ফলাগুলো সিঁদুরে সিঁদুরে রক্ত লাল। পৃথু সেই ছবি আঁকে, কোন শিক্ষক সেটা দেখে বকা দেয় না, ক্লাসের বাইরে গিয়ে নিল-ডাউন হতে বলে না বা আচমকা হাতের ওপরে বেতের বাড়ি এসে পড়ে না। একদম নিরুপদ্রব স্কুল জীবন।

তোমাকে কতবার বলেছি, এভাবে ভেজা কাপড়ে বারান্দায় উঠে দাঁড়াবে না, মায়ের চিৎকারে যখন চিন্তার পৃথিবী থেকে বাস্তবে ফেরে পৃথু, ততক্ষণে ভেজা প্যান্ট থেকে ফোটা ফোটা পানি পড়ে বারান্দা ভেসে গেছে অনেকটাই। ডানহাতের আঙুল দিয়ে দাঁত ঘষতে ঘষতে বামহাত দিয়ে সেই পানি মুছতে শুরু করে রাবি খালা।

রাবি খালাকে কাজের কথা বলতে হয় না। বাড়িতে যখন যেমন কাজের প্রয়োজন পড়ে মুখবন্ধ করে সেটা এভাবে নিমিষেই করে ফেলে। তার মুখ একমাত্র খোলে সন্ধ্যা-রাতে গল্প বলার সময়।

“খালা তুমি আমাদের বাড়িটা কীভাবে চিনেছ?” এই ছোট্ট প্রশ্ন দিয়েই শুরু হয় প্রতিদিনের গল্প। প্রতিদিনের মতো রাবি খালা খুব গাম্ভীর্য নিয়ে বলে, “তুমহাদের বাড়ি হামি চিনিনিখো, বাড়িই আমাখে চিনি লি ডাকি লিসিল।”

“তুমহারা কী মুনে কর যে জারের পক্ষী লিজে ওমের দেশ চিন্যা উড়্যা আসে? না রে ব্যাটা। ওমের দেশ দুইহাত দিয়্যা ইশারায় ড্যাকা বুলে, আয় পক্ষী আয়, এদেশেত আয়, তোদের যে ওম দরকার সেড্যা হামার বুকে আছে। সেই হাতের ইশারায় পথ চিন্যা পক্ষী হাজার হাজার মাইল উড়্যা সেই বুকে ছুট্যা আসে ওম লিতে। হামি তো পক্ষী না, হামি মানুষ, হামার যখন জার করে, তখন তুমাদের বাড়ি দুইহাতে ইশারায় হামাকে ডাকে, হামি টেরেনে চড়ি ছুট্যা আসি আর জারের সুময়ডা এবাড়ির বুকের ওম লিয়্যা বাঁচি।”

পৃথুর সেসব কথা কোনোটাই সত্য মনে হয় না, বাড়ি কীভাবে ইশারায় মানুষকে ডেকে আনবে? কিন্তু রাবি খালার মুখে সেসব শুনলে অবিশ্বাসও করতে পারে না। সে শুধু মুগ্ধতা নিয়ে শুনতেই থাকে।

রাবি খালা এক শীতের সন্ধ্যায় এসে বাড়ির কড়া নেড়েছিল। পৃথুর মা দরজা খুলতেই সে খুব স্বাভাবিক গলায় বলেছিল, “র‍্যাতটুকু থ্যাকতে দাও বু।” তার কণ্ঠে অদ্ভুত কী একটা ছিল, পৃথুর মা একপাশে সরে গিয়ে একদম অপরিচিত একটা মানুষকে বাড়িতে ঢুকতে দিয়েছিল। সে শাড়ির পোটলাটা নিয়ে খুব পরিচিত মানুষের মতো হেঁটে পৃথুদের ফাঁকা ঘরটায় গিয়ে উঠেছিল।

ঘুম ভেঙে সকালে কুয়োপাড়ে বসে শিঙটের কয়লা দিয়ে দাঁত মাজতে মাজতে, প্রথম দিনই সে মাকে বলে দিয়েছিল, সে কাজ করবে, বিনিময়ে প্রতিদিন তাকে দু’টাকা দিতে হবে আর দুইবেলার ভাত। তার যাওয়া আর আসা নিয়ে প্রশ্ন করা যাবে না। তার কথার মধ্যে কী সম্মোহনী শক্তি ছিল, কে জানে! মা সেই শর্ত মেনে নিয়েছিল।

সেই থেকে প্রতি শীতেই হঠাৎ একদিন সন্ধ্যায় রাবি খালা এসে হাজির হয়। রোজ দু’টাকা চুক্তিতে কাজ করে, ঠিক যেদিন ট্রেনের টিকেট কেনার টাকা হাতে জমে যায়, রাবি খালাও চলে যায়। সেদিন পৃথুদের কুয়োপাড় আর সন্ধ্যায় পাশের ঘরটা খাঁ খাঁ করতে থাকে। অসীম শূন্যতা বুকে নিয়ে পৃথু সুর করে ক্লাসের পড়া মুখস্থ করে।

তখন শূন্য ঘর দেখে রাবি খালার কথাগুলো পৃথুর কানে বাজে, “শুন ব্যাটা, এই যে তুমাদের ফাঁকা ঘর, শীতের বড় র‍্যাতগুলাতে তার বুক কেমন ফাঁকা ফাঁকা লাগে, একা একা খুব ভয় লাগে তার, তখন সে হামাকে ডাকি ল্যায়, হামি ছুট্যা আসি।”

“তুমি ঘরের সেই ডাক কীভাবে শুনতে পাও খালা?” রহস্যময় হাসি দিয়ে খালা বলে, “ঘর যে একটা মানুষ, সে কথা যেদিন ব্যুঝতে প্যারবা, সেদিনই দেখপা ঘর কথা বুলে, ভয় পায়, দুক্ষু পায় আবার খুশিতে ঝলমলও করে।”

পৃথু আবার প্রশ্ন করে, “খালা তুমি যখন আমাদের বাড়িতে আস, তখন তোমার নিজের বাড়ি, নিজের ঘর কী করে? তাদের কি ভয় করে না?”

খালা ছাদের দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে উদাস কণ্ঠে বলে, “যে ঘর আমাখে ডাকে, সেই আমার নিজের ঘর হোয়্যা যায় রে ব্যাটা। জারের সুময় তুমাদের ফাঁকা ঘরের খুব একা লাগে, তখন সেড্যা আমাখে ডাকে, আমি আসি। আবার ধর কুনু কুনু ঘরের গরমের খাঁ খাঁ রোদে ভয় লাগে, একা লাগে, তখন আমি তার কাছেই ছুট্যা যাই। পৃথিবীতে সব মানুষের কাজ আছে, কেউ বেকার বোস্যা থ্যাকতে আসেনি, যে বেকার বোস্যা থাকে, তার কাজই হ্যোলো বেকার বোস্যা থাকা। আমার কাজ ধর, ঘরের ডাক শুন্যা ঘরে ঘরে ছুট্যা বেড়ানো।”

পৃথু এসব অবাস্তব কথা গিলতে গিলতে ঘুমের কোলে ঢলে পড়ে। ঢুলুঢুলু চোখে যতক্ষণ সম্ভব হয়, রাবি খালাকে দেখতে থাকে। মনের ভেতরে একটাই চিন্তা তোলপাড় করে, একদিন চোখ খুলে সে দেখবে ফাঁকা কুয়োপাড়, সেখানে কেউ কয়লা দিয়ে দাঁত মাজছে না। ততক্ষণে রাবি খালা তার শাড়ির পোটলায় জমানো টাকা দিয়ে ট্রেনের টিকেট কিনে ছুটে চলেছে নতুন ঘরের ডাকে। সেদিন কোন দিন সেটা পৃথুরা কেউ আগে জানতে পারে না।

কল্পনার চোখে পৃথু দেখে, ট্রেনের জানালার বাইরে ছুটে যাচ্ছে মাঠ, নদী, গাছপালা। রাবি খালা এসব কিছুই চিনে না, কিন্তু সে জানে সামনে কোন স্টেশনে তাকে নামতে হবে। তার নিজের কোনো ঠিকানা না থাকলেও সে গন্তব্যহীন না। সে জানে, কোথাও না কোথাও একটা ঘর এই মুহূর্তে তার অপেক্ষায় একা বসে আছে।

পৃথু চোখ বন্ধ করে ভাবতে থাকে, সেও কি রাবি খালার মতো হতে পারবে? কোনো এক শীতের রাতে, যখন পৃথিবীর সব মানুষ নিজের ঘরের ওম নিতে ফিরে আসবে, পৃথু কি শুনতে পাবে দূরের কোনো ফাঁকা ঘরের আহ্বান? সেই ডাকে সাড়া দিয়ে কি সেও হতে পারবে গল্প-বলিয়ে?

ধরন ও বিষয়:
  • গল্প
  • হরিজন
  • ঞ্জীবনের লক্ষ্য
  • এইম ইন লাইফ
  • স্কুলজীবন

লেখাটি কেমন লাগল?

  • ০টি ভালোবাসা
  • এখনও কোনো রেটিং নেই

মারিয়া সালাম

লেখক

মারিয়া সালাম

কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

জন্ম ২৪ নভেম্বর, ১৯৮১। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পড়েছেন। সাংবাদিকতার হাতেখড়ি ২০০৬-এ। কাজ করেছেন বিভিন্ন মূলধারার সংবাদমাধ্যমে। তবে সাহিত্যচর্চা তার ভালোবাসার জায়গা, সেই ভালবাসা থেকেই গড়ে তুলেছেন অনলাইন সাহিত্য সাময়িকী ‘ছাড়পত্র’। প্রকাশিত গল্পের বই ‘নীলকণ্ঠী’।

মন্তব্য

মন্তব্য লোড হচ্ছে…